শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা, বলা হয়ে থাকে এদিনে একমনে চন্দ্রের আরাধনা করলে সব ইচ্ছে পূরণ হয়ে থাকে। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে এবার ৪ মে রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে শুরু হয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথি, চলবে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। নানা আয়োজন ও উৎসবের আমেজে বাংলাদেশেও বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়ে থাকে।
‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণের কারণে ভক্তদের কাছে এই দিনটির তাৎপর্য অনেক। বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর কাছে যা বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত।
সারা দেশে রাষ্ট্রীয় ছুটিসহ এদিন সকালে রাজধানীতে শান্তি শোভাযাত্রা, বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলোতে দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্বালন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করে বুদ্ধের অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়ে থাকেন।
বুদ্ধ পূর্ণিমাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ও পবিত্রতম ধর্মীয় উৎসব। এটি বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হয়। মূলত বছরের এই দিনে পৃথিবী ও চাঁদ সবচেয়ে নিকটতম অবস্থানে থাকে। ফলে ভরা জোয়ারসহ চাঁদের অভিকর্ষ বল পৃথিবীর ওপর সর্বোচ্চ থাকে। কথিত আছে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই বৈশাখী পূর্ণিমার দিনেই রাজা শুদ্ধধন ও রানী মায়াদেবীর সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পাশাপাশি এই একই দিনে তিনি সিদ্ধিলাভ করেন ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন বলে শোনা যায়।
বর্তমান নেপাল এবং প্রাচীন ভারতবর্ষের যোধপুর রাজ্যের রাজা শুদ্ধোধনের ঘরে খ্রিষ্টপূর্ব ৫৬৭-৫৬৩ অব্দের এই দিনেই গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়। আর এই একই দিনে তিনি বিহারের এক জনপদের এক বোধিবৃক্ষের নিচে সিদ্ধার্থ থেকে বুদ্ধত্বে উন্নীত হন। তাই বিহারের এই জনপদকে বুদ্ধগয়া হিসেবে পরিচিতি পায়। এদিন বুদ্ধগণ বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ ও সমবেত প্রার্থনা করে থাকেন।
এ ছাড়াও বৈশাখী পূর্ণিমায় বিষ্ণুর আরাধনারও রীতি আছে। হিন্দুধর্ম অনুসারে শ্রীবিষ্ণুর নবম অবতার মনে করা হয় গৌতম বুদ্ধকে। কথিত আছে এ দিন বিষ্ণু ও চন্দ্রদেবের পুজো করলে সব ইচ্ছে পূরণ হয়।